ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করিম বলেছেন, টাকা বা ক্ষমতার প্রলোভনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কখনো আপস করেনি। সংসদে যাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে তারা পিছপা হয়নি।
বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে ফরিদপুর–৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনে ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মাওলানা ইসহাক চোকদারের হাতপাখা প্রতীকের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
চরমোনাই পীর বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত দলের কোনো সংসদ সদস্য সংসদে যাননি। সংসদে যাওয়ার সুযোগ বহুবার এসেছে। অনেক রাজনৈতিক দল তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এমপি কিংবা মন্ত্রিত্ব দেওয়ার প্রস্তাবও এসেছে।
তিনি বলেন, আজ আমরা টাকার অভাবে প্রার্থীদের নির্বাচন করতে কষ্ট করছি। অথচ তারা টাকার বস্তা নিয়ে অপেক্ষা করছে। কিন্তু সেই নীতি ও নেতৃত্বের সঙ্গে আমরা থাকতে পারি না, যাদের কারণে হাজার হাজার মায়ের বুক খালি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন কখনোই গতানুগতিক রাজনীতি, নীতি ও আদর্শের সঙ্গে আপস করেনি। এসব নীতির মাধ্যমে খুন, চুরি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি কিংবা বিদেশে টাকা পাচার বন্ধ করা যায়নি। বরং মিথ্যা মামলার মাধ্যমে অসংখ্য নিরপরাধ মানুষের সংসার ধ্বংস করা হয়েছে।
জনসভায় চরমোনাই পীর বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশ পুনর্গঠন ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে ইসলামের পক্ষে একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রথমে কওমি ঘরানার দলগুলো যুক্ত হলেও পরে জামায়াত এতে যোগ দেয়। তবে পরবর্তীতে তাদের অবস্থান ও কর্মকাণ্ডে মতবিরোধ দেখা দেয়। তারা শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করবে না। ভারত ও আমেরিকার সঙ্গে গোপন বৈঠক করে। তাদের নেতৃত্বে ইসলামী আন্দোলন থাকতে পারে না।
বিএনপি ও জামায়াত জোটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জামায়াত সমর্থিত এক হিন্দু প্রার্থী নিজেই বলেছেন, জামায়াত ইসলামী দল নয়। কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, জামায়াত ইসলাম অনুযায়ী দেশ চালাবে না, প্রচলিত নিয়মেই চালাবে।’ অথচ সেই প্রচলিত নিয়ম গত ৫৪ বছরেও দেশকে দুর্নীতি ও সহিংসতা থেকে মুক্ত করতে পারেনি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ভাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. হান্নান মাতুব্বরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ফরিদপুর–৪ আসনের ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মো. ইসহাক চোকদার, দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুফতি রেজাউল করিম আবরার, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা মোক্তার হোসেন জাফর, ফরিদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা মোস্তফা কামালসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।