গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীতে আট দফা দাবিতে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শিল্প পুলিশের প্রায় ১০ জন সদস্য আহত হয়েছেন। গতকাল সকালে মহানগরীর কোনাবাড়ীতে অবস্থিত যমুনা ডেনিমস লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, আমাদের আট দফা দাবি ছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা না মেনে পুলিশ এনে আমাদের ওপর টিয়ারসেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এতে প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। পরে তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এসময় শ্রমিকরা ডিরেক্টর কাজলকান্তির পদত্যাগ চান। এ ছাড়া আরও কিছু দাবি জানান। যেমন, বার্ষিক ছুটির বকেয়া টাকা ২৫ জানুয়ারির মধ্যে এবং পরবর্তী বার্ষিক ছুটির টাকা ডিসেম্বর মাসে দিতে হবে। টিফিন বিল ৫০ টাকা এবং রাত ১০টার পর ডিউটি করানো হলে নাইট বিলের ১৫০ টাকা দিতে হবে। হাজিরা বোনাস হেলপার থেকে অপারেটর সবাইকে ১ হাজার টাকা করে দিতে হবে। ৭ তারিখের ভিতরে বেতন পরিশোধ করতে হবে এবং যদি ৭ তারিখ শুক্রবার হয় তাহলে ৬ তারিখে পরিশোধ করতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে ছুটি মঞ্জুর করতে হবে। ফ্লোরে কোনো স্টাফ ওয়ার্কারের সঙ্গে খারাপ আচরণ এবং বাজে ভাষায় মা, বাপ তুলে গালিগালাজ করতে পারবে না। যদি কোনো ওয়ার্কার স্টাফদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট দেয় তা সরাসরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ আন্দোলনে কোনো ওয়ার্কার এবং স্টাফের ওপর কোনো ধরনের অ্যাকশন নেওয়া যাবে না এবং চাকরি থেকে বহিষ্কার করা যাবে না।
এ ঘটনায় কারখানা কর্তৃপক্ষ বেলা ১১টার সময় মূল ফটকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধের নোটিশ সাঁটিয়ে দেন।
পুলিশ জানায়, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগে উচ্ছৃঙ্খল শ্রমিক রাস্তা অবরোধ করে রাস্তার ওপরে অবস্থান করে। পরে শ্রমিকরা পুলিশের সঙ্গে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ও ইটপাটকেল মারলে পুলিশ টিয়ারসেল, সাউন্ড গ্রেনেট ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে। পরে কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ কোনাবাড়ী জোনের পরিদর্শক মো. মোর্শেদ জামান বলেন, উচ্ছৃঙ্খল শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারসেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানার সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।