পবিত্র রমজান মাসে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছুটি পুনর্বহাল এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোকে বার্ষিক ছুটির হিসাব থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জোটের পক্ষ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক বরাবর এ সংক্রান্ত একটি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
জোটের সদস্য সচিব দেলাওয়ার হোসেন আজিজী স্বাক্ষরিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ২০২৬ সালের বার্ষিক ছুটির তালিকায় রমজান মাসের প্রায় ১৫ দিন (৫ মার্চ পর্যন্ত) বিদ্যালয় খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক নেতারা বলছেন, দীর্ঘ সময় রোজা রেখে এবং রাতে তারাবিহ নামাজ আদায় করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষে শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নেওয়া শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত কষ্টকর। তাই রমজানের পবিত্রতা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় পুরো মাস ছুটি রাখার দাবি জানান তারা।
আবেদনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অসংগতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৬ সালের বার্ষিক ছুটির তালিকায় মোট ৮টি সাপ্তাহিক ছুটির দিনকে (শুক্রবার ও শনিবার) সাধারণ ছুটির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
মার্চ মাসের ১৩, ১৪, ২০ ও ২১ তারিখ।
মে মাসের ২৯ ও ৩০ তারিখ।
ডিসেম্বর মাসের ২৫ ও ২৬ তারিখ।
শিক্ষকদের মতে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোকে বার্ষিক ছুটির তালিকায় গণনা করা অযৌক্তিক। তাই এই দিনগুলোকে বাদ দিয়ে নতুনভাবে ছুটির তালিকা সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষক নেতাদের মতে, গত বছরের তুলনায় ২০২৬ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোট ছুটি ১২ দিন কমিয়ে ৬৪ দিন করা হয়েছে। অন্যদিকে মাদ্রাসায় রমজানে পুরো মাস ছুটির বিধান রাখা হলেও মাধ্যমিকে তা রাখা হয়নি, যা এক ধরণের বৈষম্য। তারা আশা করছেন, শিক্ষা প্রশাসন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মানবিক দিক বিবেচনা করে দ্রুত এই ছুটির তালিকাটি সংশোধন করবে।