বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মেডিকেল বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী দেওয়া চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও মেডিকেল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে তিনি সাংবাদিকদের সর্বশেষ অবস্থা জানান।
ডা. জাহিদ বলেন, গত তিন দিন ধরে (২৭, ২৮ ও ২৯ নভেম্বর) খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। চিকিৎসা ভাষায় এটাকে বলা যায়—তিনি বর্তমানে চিকিৎসার প্রতিক্রিয়া ধরে রাখতে পারছেন। তিনি সবার কাছে খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন।
বিদেশে নেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাইরে চিকিৎসা দেওয়া হবে কি না—এটি পুরোপুরি নির্ভর করছে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি এবং মেডিকেল বোর্ডের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। বোর্ডের সুপারিশ পাওয়া গেলে তা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২৩ নভেম্বর রাতে ফুসফুসের সংক্রমণজনিত সমস্যা নিয়ে খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। কয়েকদিন আগে বিএনপি মহাসচিব জানান, তাঁর অবস্থা ‘সংকটাপন্ন’। বর্তমানে ২৭ নভেম্বর থেকে তাঁকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ডা. জাহিদ আরও জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দূর থেকেই চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং চিকিৎসা কার্যক্রম যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। হাসপাতালের ভেতরেও পরিবার-পরিজন, দলের শীর্ষ নেতারা ও হাসপাতালের চিকিৎসক–নার্সরা নিবিড়ভাবে তাঁর চিকিৎসায় সহযোগিতা করছেন।
তিনি জানান, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স ও মাউন্ট সিনাইসহ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে বর্তমান চিকিৎসা পরিচালিত হচ্ছে।
ডা. জাহিদ দেশবাসীর কাছে খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া চাইতে আহ্বান জানান। একই সঙ্গে হাসপাতালে ভিড় না করার অনুরোধ জানান যাতে অন্য রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত না হয়, কারণ সেখানে খালেদা জিয়ার পাশাপাশি আরও তিন শতাধিক রোগী চিকিৎসাধীন।
এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানদের উদ্বেগ প্রকাশ এবং সহযোগিতার আগ্রহ জানানোয় তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান।